
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে গ্রেফতার করা দুই আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ভোররাত সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের চাঁদনীমুখা পার্শ্বেমারী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনায় চার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) বদরুজ্জামান ও কনস্টেবল নাজমুল হাসানকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, স্থানীয় ইউপি সদস্য মশিউর রহমানের নেতৃত্বে আসামিদের স্বজন ও সমর্থকরা লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালান। এ ঘটনায় শ্যামনগর থানার চার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে এএসআই বদরুজ্জামান ও কনস্টেবল নাজমুল হাসানকে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
শ্যামনগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) পিয়ার উদ্দিন বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের দাফন কাজে সহায়তার জন্য তার নেতৃত্বে ৮ থেকে ৯ সদস্যের একটি বিশেষ পুলিশ দল গাবুরা ইউনিয়নের চৌদ্দরশি গ্রামে যায়। দাফন শেষে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আদালতের পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের গ্রেফতারে পাশের চাঁদনীমুখা পার্শ্বেমারী গ্রামে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে আদালতের ওয়ারেন্টভুক্ত তিন আসামি মাইনুর রহমান, শাহিনুর রহমান ও মহিদুল ইসলামকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তাদের নিয়ে থানার উদ্দেশে রওনা হলে চাঁদনীমুখা এলাকায় পুলিশের গাড়ির গতিরোধ করে ৩০ থেকে ৩৫ জনের একটি দল। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ইউপি সদস্য মশিউর রহমানের নেতৃত্বে ওই দলটি লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়।
এ সময় হামলাকারীরা পুলিশ সদস্যদের মারধর করে এবং পুলিশের হেফাজতে থাকা শাহিনুর রহমান ও মহিদুল ইসলামকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়। পুলিশ সদস্যরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে চারজন আহত হন।
এ ঘটনায় শ্যামনগর থানায় নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। মামলায় থানার এসআই অনিরুদ্ধ বাদী হয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মশিউর রহমান, তার বাবাসহ ১৫ জনের নাম উল্লেখ করেছেন। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ২৫ থেকে ৩০ জনকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।
শ্যামনগর থানার ওসি সাফিউল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশের সরকারি কাজে বাধা, হামলা এবং ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত ৪ নম্বর আসামি রিপনকে গ্রেফতার করেছে।
ওসি আরও বলেন, ছিনিয়ে নেওয়া দুই আসামিকে পুনরায় গ্রেফতার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের আটক করতে গাবুরা ও আশপাশের এলাকায় পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
