বদরুদ্দোজা প্রধান, পঞ্চগড়: পঞ্চগড়ে এক রাতের ঝড়বৃষ্টিতে শত শত গম চাষীর স্বপ্ন ভেঙে গেছে। গত ১২ মার্চ দিবাগত রাতে কয়েক ঘণ্টার টানা ঝড়বৃষ্টিতে জেলার বিস্তীর্ণ এলাকার গমক্ষেত মাটিতে নুয়ে পড়েছে। এতে কয়েক শত একর জমির গম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হঠাৎ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। অনেক ক্ষেতেই গম এতটাই নুয়ে পড়েছে যে তা আর সোজা করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন চাষীরা। ক্ষতিগ্রস্তদের ভাষায়, এক রাতের ঝড়বৃষ্টি তাদের কয়েক মাসের পরিশ্রম ও স্বপ্ন একসঙ্গে ভেঙে দিয়েছে। কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় কৃষকদের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে পঞ্চগড় সদর উপজেলায় প্রায় ৫ হাজার ২০০ হেক্টর বা প্রায় ৩৯ হাজার বিঘা জমিতে গম চাষ হয়েছে। নভেম্বর মাসে জমিতে গমের বীজ বপনের পর তিন মাসের পরিচর্যায় ক্ষেতগুলো শীষে ভরে উঠেছিল। আর মাত্র ১৫ দিনের মধ্যেই গম কাটার মৌসুম শুরু হওয়ার কথা ছিল। কৃষকরা জানান, ভালো ফলনের আশায় তারা পরিবার চালানো ও ঋণ পরিশোধের পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু ১২ মার্চ রাতে আকস্মিক ঝড়বৃষ্টিতে সেই আশা অনেকটাই ভেঙে গেছে। আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, ওই রাতে জেলায় ১১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয় এবং ঘণ্টায় ২৫ থেকে ৩০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বয়ে যায়। এর ফলে সদর উপজেলার অমরখানা, সাতমেরা, কামাত কাজলদিঘী, হাফিজাবাদসহ কয়েকটি ইউনিয়নের গমক্ষেত ব্যাপকভাবে নুয়ে পড়ে। সরকারি হিসাবে প্রায় ২০ একর জমির গম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানানো হলেও স্থানীয় কৃষকদের দাবি, বাস্তবে ক্ষতির পরিমাণ কয়েকশ একর ছাড়িয়ে গেছে। সাতমেরা ইউনিয়নের জোঁতসওদা গ্রামের গম চাষী কসিমউদ্দিন বলেন, তিনি এক একর জমিতে গম চাষ করেছিলেন। ঝড়বৃষ্টিতে তার অর্ধেক জমির গম মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। এতে অন্তত ৫০ মণ গমের ফলন কমে যাবে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন। একই গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, তিন বিঘা জমিতে গম আবাদ করেছিলেন তিনি। ঝড়বৃষ্টিতে এক বিঘা জমির গম পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। গম নিয়ে যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা এখন ভেঙে গেছে বলেই জানান তিনি। পঞ্চগড় সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আসাদুন্নবী বলেন, ১২ মার্চ রাতের ঝড়বৃষ্টিতে সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে গম ও ভুট্টা ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি ইউনিয়নে গমক্ষেত বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে। তিনি আরও জানান, মাটিতে নুয়ে পড়া গমক্ষেত তাৎক্ষণিকভাবে পুনরুদ্ধার করার তেমন কোনো উপায় নেই। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। তাৎক্ষণিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া সম্ভব না হলেও আগামী পাট মৌসুমে প্রণোদনার মাধ্যমে সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এদিকে গমের এমন ক্ষতিতে হতাশ হয়ে পড়েছেন জেলার শত শত কৃষক। অনেকেই বলছেন, কয়েক মাসের পরিশ্রমে ফলন ভালো হওয়ার আশা ছিল। কিন্তু এক রাতের ঝড়বৃষ্টিই তাদের সেই স্বপ্নকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
