
8
রাকিব হোসেন ঢাকা :
রাজধানীর ধানমণ্ডির শংকরের সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে সন্তান প্রসব করাতে এসে এক প্রসূতি ও তার নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসকদের অবহেলা, টাকার চাপ ও সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় এ মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর হাসপাতালে উত্তেজনা, হাতাহাতি ও পুলিশের হস্তক্ষেপ ঘটে।
স্বজনদের দাবি, মৃত্যুর মাত্র পাঁচ মিনিট আগেও রোগীর সঙ্গে কথা বলেছেন। এরপর নার্স স্যালাইনের জন্য পাঁচ হাজার টাকা চান। টাকা আসছে জানালে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে রোগী নিয়ে যেতে বলেন এবং একটি কাগজে জোর করে স্বাক্ষর নিতে চান। কর্তব্যরত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, “তারা কি ডাক্তারের চেয়েও বড়? আগামীকাল সাধারণ বেডে দিয়ে দেব।”
কিছুক্ষণ পর এক নার্স এসে বলেন, “সই করুন, রোগী মারা গেছে।” আইসিইউতে ঢুকে স্বজনরা দেখেন লাইফ সাপোর্ট খুলে রাখা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, টাকা না দেওয়া ও নার্সদের সঙ্গে তর্কের জেরে ইচ্ছাকৃতভাবে লাইফ সাপোর্ট খুলে দেওয়ায় রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
ক্ষুব্ধ স্বজনরা সাংবাদিক ও ৯৯৯-এ খবর দিলে পালানোর সময় কর্তব্যরত চিকিৎসককে স্থানীয়রা আটক করে। পরে পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়।
অভিযোগ রয়েছে, পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিভিন্নভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করে। পুলিশের উপস্থিতিতে নিহতের পরিবারের সঙ্গে সাড়ে চার লাখ টাকার লিখিত চুক্তি হয়, যেখানে দায়িত্বে অবহেলার কারণে মৃত্যুর কথা উল্লেখ করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি লেখা হয়।
হাসপাতালে থাকা অন্য রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, এখানে পর্যাপ্ত অভিজ্ঞ চিকিৎসক নেই। চিকিৎসকরা অল্প সময় থাকেন, অধিকাংশ চিকিৎসা চলে নার্স ও আয়ার মাধ্যমে।
সরেজমিনে দেখা যায়, “সুপার স্পেশালাইজড” নাম থাকলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা ও অবকাঠামোর ঘাটতি রয়েছে। ভবন নির্মাণ বিধিমালা ও স্বাস্থ্যসেবার মানদণ্ডও মানা হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
এদিকে, সংবাদ প্রকাশ না করতে সাংবাদিকদের খামে টাকা দিতে চাইলে উপস্থিত সব সাংবাদিকরা একযোগে তা প্রত্যাখ্যান করে চলে আসে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতাল থেকে দালালের মাধ্যমে রোগী এনে ভর্তি করানো, অতিরিক্ত মূল্যে পরীক্ষা, নিম্নমানের ওষুধ প্রেসক্রাইব এবং ওষুধ কোম্পানির সঙ্গে গোপন সমঝোতার মাধ্যমে অনিয়ম চলে।
আশপাশের ব্যবসায়ীদের দাবি, ভুল চিকিৎসাজনিত মৃত্যু ও মারামারির ঘটনা এখানে প্রায়ই ঘটে। গত মাসেও এমন একটি ঘটনা মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে আপস করা হয়েছে বলে তারা জানান।
এ ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলা, হাসপাতাল পরিচালনায় অনিয়ম ও রোগীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে হাসপাতালটি নির্বিঘ্নে ব্যবসা করেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজনরা।
চিকিৎসাসেবার নামে যেন কোনো হাসপাতাল আর মৃত্যুপুরীতে পরিণত না হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।
