
মোঃ শরীফুল আজম (বাবু)
গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে পাচারের উদ্দেশ্যে রাখা প্রাচীন প্রত্নবস্তু হিসেবে শনাক্ত দুটি মূল্যবান পাথরের মূর্তি উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার করা মূর্তি দুটির আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ৩৫ লাখ ৮৭ হাজার টাকা বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। গোবিন্দগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার মীর কায়েছের আইনি তৎপরতা ও সহযোগিতায় পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বিজিবির এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে জয়পুরহাট ব্যাটালিয়ন (২০ বিজিবি)-এর একটি বিশেষ টহলদল চোরাচালানবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাখাহার ইউনিয়নের জিরাই গ্রামের একটি বসতবাড়ির উত্তর পাশে কোগারিয়া-জিরাই পাকা সড়কের ওপর মূল্যবান পাথরের দুটি মূর্তি রেখে ভারতে পাচারের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
সংবাদের ভিত্তিতে ২৫ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে বিজিবির টহলদল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সেখানে থাকা ব্যক্তিরা বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে মূর্তি দুটি সড়কের পাশে ফেলে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় টহলদলের সদস্যরা তিনজনকে আটক করতে সক্ষম হন। তবে আরও ৮ থেকে ১০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি পালিয়ে যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন মো. এনামুল হক (৫০), পিতা-মৃত আবুল কাশেম, গ্রাম-জিরাই, পোস্ট-পণ্ডিতপুর, উপজেলা-গোবিন্দগঞ্জ, জেলা-গাইবান্ধা; মো. আলিশ হোসেন (২২), পিতা-মো. আরিফ হোসেন, গ্রাম-দইহারা, পোস্ট-আইমাবাদ, উপজেলা-গোবিন্দগঞ্জ, জেলা-গাইবান্ধা এবং মোছা. সরজিলা আক্তার (৩০), স্বামী-মো. বুরুজ মিয়া, গ্রাম-দইহারা, পোস্ট-আইমাবাদ, উপজেলা-গোবিন্দগঞ্জ, জেলা-গাইবান্ধা।
পরে স্থানীয় লোকজন ও সাক্ষীদের উপস্থিতিতে ঘটনাস্থল থেকে মূর্তি দুটি জব্দ করা হয়। এর মধ্যে একটি কষ্টিপাথরের বিষ্ণুমূর্তি। এর দৈর্ঘ্য ২২ দশমিক ৫ ইঞ্চি, প্রস্থ ১০ ইঞ্চি এবং ওজন ১৬ দশমিক ৮৭ কেজি। এটির আনুমানিক মূল্য ১৬ লাখ ৮৭ হাজার টাকা।
অপরটি কষ্টিপাথর সদৃশ একটি বস্তু। এর দৈর্ঘ্য ৪০ ইঞ্চি, প্রস্থ ১৬ ইঞ্চি এবং ওজন ১১৯ কেজি। এর আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ১৯ লাখ টাকা বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে তারা মূর্তি চোরাকারবারি চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছে—এমন দাবি করেছে বিজিবি। উদ্ধার করা মূর্তি দুটি অধিক মুনাফায় বিক্রি এবং সীমান্তবর্তী চোরাই পথ ব্যবহার করে ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে তারা সেখানে একত্রিত হয়েছিল বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা আদালতে প্রমাণ সাপেক্ষ।
উদ্ধার করা মূর্তিগুলোর প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব যাচাইয়ের জন্য নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার পাহাড়পুর প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতামত নেওয়া হয়েছে। এজাহারের সংযুক্ত নথিতে পাহাড়পুর প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘরের মতামতের কপিও সংযুক্ত থাকার কথা উল্লেখ রয়েছে।
ঘটনার পর আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে The Special Powers Act, 1974-এর 25B(1)(a)/25D ধারায় নিয়মিত মামলা করার জন্য এজাহার দায়ের করা হয়। গোবিন্দগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার মীর কায়েসের আইনগত তৎপরতায় মামলার পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এমন সমন্বিত তৎপরতায় মূল্যবান প্রত্নসম্পদ পাচার রোধ এবং দেশের ঐতিহাসিক নিদর্শন সংরক্ষণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
