
—- মোঃ মহিউদ্দিন
ভোলার ২২ লক্ষ মানুষের আর্তি, বঞ্চনার দীর্ঘশ্বাস আর উন্নয়নের স্বপ্ন আজ গাঢ় হয়ে ফুটে উঠেছে এক বিশাল পদচারণায়—ভোলা টু ঢাকা লং মার্চ। ভোলা–বরিশাল সেতু নির্মাণের প্রাণের দাবিকে হৃদয়ে ধারণ করে যে তরুণরা পা বাড়িয়েছে রাজধানীর দিকে, তারা শুধু কয়েকজন যুবক নয়—তারা ভোলার শতাব্দীর আকাঙ্ক্ষার প্রতীক।
১. পদ্মার বুকে স্বপ্নময় দোয়া
লং মার্চের সেই তরুণ যোদ্ধারা যখন পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে হাঁটার অনুমতি পেল না, তখনো তারা থেমে যায়নি। ফিরে যায়নি। বরং তারা বেছে নিয়েছে আরও কঠিন পথ—সাঁতরে পদ্মা নদী পার হওয়ার পথ।
পদ্মার খরস্রোতা স্রোত যখন ভয় দেখায়, তখন তারা কালেমা পড়ে নেমেছে পানিতে—বিশ্বাসে, সাহসে, ভালোবাসায়।
এই দৃশ্য শুধু এক নদী পারাপার নয়, এটি এক ইতিহাস রচনা।
তাদের সঙ্গেই ছিলেন সহযোদ্ধা নোমান ভাই, জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন নদীর বুকে।
২২ লক্ষ ভোলাবাসীর দোয়া তখন বাতাসে যেন বয়ে গেছে।
আলহামদুলিল্লাহ, তিনি এখন শঙ্কামুক্ত—এটাই প্রমাণ, ভোলার মানুষের প্রার্থনা কখনো ব্যর্থ হয় না।
২. ভোলার মানুষের দাবি—জীবনের দাবি
ভোলা–বরিশাল সেতুর দাবি কোনো রাজনৈতিক স্লোগান নয়; এটা ভোলার মানুষের প্রতিদিনের বেদনা।
রোগী নিয়ে নদী পার হওয়া, ঝড়-বৃষ্টিতে লঞ্চ বন্ধ, জরুরি অসুস্থতা—সবই এক অন্তহীন যন্ত্রণা।
সেই যন্ত্রণার শেষ দাবি করেই ১৭ জন তরুণ বীরের দল শুরু করেছে এই লং মার্চ।
তাদের উদ্দেশ্য ছিল পায়ে হেঁটে পদ্মা সেতু পার হওয়া, কিন্তু নিরাপত্তার কারণে অনুমতি না মেলায় বাধ্য হয়েই আজ তারা নদী পাড়ি দিচ্ছে।
এটা কেবল ঝুঁকি নয়—এটা তাদের দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতীক।
৩. ভোলার ২২ লক্ষ মানুষের কৃতজ্ঞতা
ভোলা আজ এই যুবকদের দিকে তাকিয়ে আছে গভীর শ্রদ্ধায়।
মানুষ বলছে—
“ভোলার ২২ লক্ষ মানুষ আপনাদের কাছে ঋণী।”
কারণ, তারা শুধু নিজেদের ভবিষ্যতের জন্য হাঁটছে না—
তারা হাঁটছে একটি জেলার বেঁচে থাকার অধিকারের জন্য।
৪. কুইন আইল্যান্ডের স্বপ্নবাজ সন্তানেরা
ভোলা—বাংলাদেশের কুইন আইল্যান্ড।
অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ, সম্ভাবনায় ভরা এই দ্বীপ আজও মূল ভূখন্ডের সাথে একটি স্থায়ী সেতুর অপেক্ষায়।
এই লং মার্চের তরুণ যোদ্ধারা সেই অপেক্ষার ভাষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পায়ে হেঁটে
সূর্যের নিচে,
রাতের আঁধারে,
ধুলা–ঘামে ভিজে তারা পৌঁছেছে বোরহানউদ্দিন,
সামনে আরও অনেক পথ—কিন্তু তাদের চোখে ক্লান্তি নেই।
আছে শুধু একটি স্লোগান—
“ভোলা–বরিশাল সেতু চাই!”
৫. পরিবর্তনের আগুন—বাংলার নতুন প্রজন্ম
সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ঘাট—সব জায়গায় আজ ভোলার এই প্রজন্মের গল্প ছড়িয়ে পড়ছে।
তাদের পদক্ষেপে জেগে উঠছে এক নতুন চেতনা—
দাবি আদায়ের চেতনা,
পরিবর্তনের চেতনা।
লং মার্চ তো কেবল হাঁটা নয়—
এটি প্রতিটি তরুণের বুকে প্রজ্বলিত আগুনের নাম,
যে আগুন আজ ভোলা থেকে ঢাকার পথে ছড়িয়ে পড়ছে সারা বাংলায়।
৬. তাদের জন্য দোয়া চাই
কালেমা পড়া কণ্ঠে, হৃদয়ে প্রার্থনা নিয়ে আজ তারা নামেছে পদ্মায়।
তাদের এই ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় ভোলার মানুষ তো আছেই,
সাথে আছে কোটি মানুষের মোনাজাত।
পদ্মা সেতুর আশেপাশে যারা আছেন,
এই সাহসী সন্তানদের পাশে দাঁড়ান।
এরা ভোলার নয়—বাংলার সম্পদ।
শেষবাক্য—
একদিন যখন ভোলা–বরিশাল সেতু দাঁড়াবে,
যখন অ্যাম্বুলেন্স আর জীবন নিয়ে নদীর স্রোতের সাথে যুদ্ধ করতে হবে না,
তখন ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে—
কিছু তরুণ ছিল, যারা হাঁটতে হাঁটতে বদলে দিয়েছিল ভোলার ভাগ্য।
