গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধা কালবৈশাখী ঝড় ও কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে গাইবান্ধার কৃষকের সোনালী স্বপ্ন এখন ফিঁকে হওয়ার পথে। গত কয়েক দিন ধরে জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া দমকা হাওয়া ও ভারী বর্ষণে মাঠের পর মাঠ পাকা ও আধাপাকা বোরো ধান মাটিতে নুয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে ধানক্ষেত।
সরেজমিনে গাইবান্ধা সদর, সাঘাটা, সাদুল্যাপুর, ফুলছড়ি, সুন্দরগঞ্জ, পলাশবাড়ী ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষত। বিশেষ করে যেসব জমির ধান পেকে সোনালী বর্ণ ধারণ করেছিল, সেগুলো নুয়ে পড়ায় দানা পচে যাওয়ার ও ঝরে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ জমির ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। অনেক জমির ধান বাতাসে লুটিয়ে পড়ায় আধা পাকা ধানই কাটতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষক।
সদর উপজেলার বাদিয়াখালী ইউনিয়নের কৃষক সাহাব উদ্দিন বলেন, “ঋণ করে তিন বিঘা জমিতে বোরো চাষ করেছি। ধান কাটার ঠিক আগ মুহূর্তে এই বৃষ্টি সব শেষ করে দিল। গাছ নুয়ে পড়ায় এখন ধান কাটার শ্রমিকও পাওয়া যাচ্ছে না, আর পাওয়া গেলেও দ্বিগুণ মজুরি দাবি করছে”।
পলাশবাড়ীর হরিনাবাড়ী এলাকার কৃষক মোবারক হোসেন জানান, নিচু এলাকার জমিতে পানি জমে থাকায় ধান পচতে শুরু করেছে। রোদ না থাকায় কেটে রাখা ধানও শুকাতে পারছেন না তারা।
শ্রমিক সংকট ও বাড়তি খরচ
জমিতে পানি জমে থাকায় ধান কাটতে পারছেন না কৃষকেরা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তীব্র শ্রমিকসংকট। স্থানীয় কৃষকদের তথ্যমতে, স্বাভাবিক সময়ে বিঘাপ্রতি ধান কাটার খরচ ৩-৪ হাজার টাকা হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে ৫-৬ হাজার টাকা দিয়েও শ্রমিক মিলছে না। মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই শ্রমিকপ্রতি মজুরি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা।
ফলন ও মূল্য নিয়ে দুশ্চিন্তা
কৃষকের প্রধান ফসল চোখের সামনে নষ্ট হতে দেখে দুশ্চিন্তায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন জেলার হাজারো পরিবার। পাকা-আধা পাকা ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কাঁচা ধান কাটতে বাধ্য হওয়ায় ফলন কমে যাচ্ছে, আবার পচে যাওয়ার ভয়ে দ্রুত বিক্রি করতে গিয়ে ন্যায্যমূল্য থেকেও বঞ্চিত হওয়ার শঙ্কা করছেন তারা।
গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে জেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। তবে হঠাৎ এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে কয়েক শত হেক্টর জমির ধান সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। জেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, “আমরা কৃষকদের দ্রুত জমি থেকে পানি নিষ্কাশনের পরামর্শ দিচ্ছি। যেসব জমির ধান ৮০ শতাংশ পেকে গেছে, সেগুলো বিলম্ব না করে দ্রুত কেটে ফেলার জন্য মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সচেতন করা হচ্ছে”।
মোঃ শরীফুল আজম (বাবু)
