


গাইবান্ধা প্রতিনিধি
মোঃ শরীফুল আজম (বাবু)
গাইবান্ধার সাঘাটায় মাদ্রাসার অফিস কক্ষে এক তরুণ শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের চেষ্টার অভিযোগে রবিউল ইসলাম (২৬) নামের এক শিক্ষককে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা।
ঘটনার বিবরণ:
আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের শিমুলতাইড় গ্রামের রেলওয়ে বানমারি মাঠ সংলগ্ন জামিয়া কারমিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত রবিউল ইসলাম গাইবান্ধা সদর উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে। তিনি প্রায় এক মাস আগে ওই মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য:
স্থানীয়রা জানান, সকালে মাদ্রাসার অফিস কক্ষে শিক্ষক রবিউল ইসলাম এক শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক বলাৎকারের চেষ্টা করেন। এ সময় ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে অভিযুক্তকে হাতেনাতে আটক করেন। প্রত্যক্ষদর্শী মাহাবুর রহমান বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক মাদ্রাসায় যোগদানের পর থেকেই ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে খারাপ আচরণ করে আসছিলেন। আজ সকালে আবারও জোর করলে ছাত্রটি চিৎকার শুরু করে। মান-সম্মানের ভয়ে সে আগে পরিবারকে কিছু জানায়নি। আমরা এ শিক্ষকের কঠোর শাস্তি চাই।
পুলিশের হস্তক্ষেপ:
ঘটনাস্থলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে সাঘাটা থানা পুলিশ দ্রুত উপস্থিত হয়। পুলিশ অভিযুক্তকে ভ্যানে তোলার সময় উত্তেজিত জনতা পুলিশের সামনেই তাকে মারধর করে এবং একপর্যায়ে মাটিতে ফেলে গণধোলাই দেয়। পরে পুলিশ জনতার বাধা উপেক্ষা করে রবিউলকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেয়।
পুলিশের বক্তব্য:
সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুবুর রহমান বলেন, এলাকাবাসী অভিযুক্তকে আটকে রেখেছিল। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে ফোর্স পাঠিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ক্যাপশন: অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক রবিউল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত।
তারিখ: ০৫.০৬.২৬ ইং
