
মোঃ শরীফুল আজম (বাবু)
গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধা জেলার সাতটি উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামগঞ্জে মাদক ও জুয়ার ভয়াবহ বিস্তার ঘটেছে। শিশু থেকে প্রাপ্তবয়স্ক সব বয়সের মানুষ মাদক ব্যবসা ও জুয়ার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে শিশু-কিশোরদের দিয়ে মাদক বহন ও বিক্রি করানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বিচ্ছিন্নভাবে অভিযান চালিয়ে কিছু মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করলেও বড় কোনো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারছে না। ফলে পলাশবাড়ী, সাদুল্লাপুর, সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা, গোবিন্দগঞ্জ, ফুলছড়ি ও গাইবান্ধা সদর এই সাত উপজেলার গ্রামীণ জনপদে মাদক, তীর খেলা, লুডু ও অনলাইন জুয়ার আসর দিন দিন বাড়ছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, শুধু অভিযান দিয়ে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। গ্রাম পর্যায়ে সামাজিক সচেতনতা ও পারিবারিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি। প্রশাসন যদি গ্রামে গ্রামে উঠান বৈঠক ও সামাজিক প্রতিরোধ মিটিং করে, তাহলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।
প্রশাসনের করণীয়:
জেলা প্রশাসন:
১. প্রতিটি ইউনিয়নে মাদক ও জুয়া বিরোধী নাগরিক কমিটি গঠন করতে হবে।
২. উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে মাসিক মনিটরিং সভা চালু করা জরুরি।
৩. সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত সচেতনতামূলক ক্লাস নিশ্চিত করতে হবে।
পুলিশ প্রশাসন:
১. বিট পুলিশিং জোরদার করে গ্রামে গ্রামে উঠান বৈঠক করতে হবে।
২. গোপন তথ্যদাতার নেটওয়ার্ক তৈরি ও সোর্স মানি বাড়াতে হবে।
৩. স্কুল-কলেজ ছুটির সময় মাদক স্পটগুলোতে বিশেষ টহল দিতে হবে।
৪. অনলাইন জুয়ার অ্যাপ ও স্থানীয় এজেন্টদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর:
১. প্রতিটি গ্রামে মাইকিং, পথসভা ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে সচেতনতা বাড়াতে হবে।
২. মসজিদ, মন্দির ও স্কুলে ইমাম ও শিক্ষকদের সম্পৃক্ত করে প্রচারণা চালাতে হবে।
৩. মাদকাসক্তদের তালিকা করে বিনামূল্যে কাউন্সেলিং ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।
৪. সীমান্তবর্তী সুন্দরগঞ্জ ও সাঘাটা উপজেলায় মাদক প্রবেশের রুটে বিশেষ নজরদারি বাড়াতে হবে।
ইউনিয়ন পরিষদ ও কমিউনিটি:
১. গ্রাম পুলিশ ও চৌকিদারদের মাধ্যমে জুয়ার আসরের তথ্য সংগ্রহ করতে হবে।
২. মাদক ব্যবসায়ীদের সামাজিকভাবে বয়কটের নীতি গ্রহণ করতে হবে।
৩. বেকার যুবকদের জন্য খেলাধুলা ও কারিগরি প্রশিক্ষণের আয়োজন করতে হবে।
স্থানীয়দের অভিমত:
সাদুল্লাপুরের বাসিন্দা আব্দুর রহিম বলেন, পুলিশ এসে দু-একজনকে ধরে নিয়ে যায়, কিন্তু মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে। গ্রামে সবাই মিলে প্রতিরোধ না করলে এটা বন্ধ হবে না। গোবিন্দগঞ্জের স্কুলশিক্ষিকা শাহানা বেগম বলেন, ক্লাস সিক্স সেভেনের ছেলেরা এখন মোবাইলে জুয়া খেলে। অভিভাবক সমাবেশে এগুলো নিয়ে আলোচনা করতে হবে।
এ বিষয়ে গাইবান্ধার পুলিশ সুপারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমরা ইতিমধ্যে বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে সচেতনতা বাড়াচ্ছি। জনপ্রতিনিধি ও আলেম সমাজকে সঙ্গে নিয়ে আরও বড় পরিসরে কাজ করার পরিকল্পনা আছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রশাসনিক অভিযানের পাশাপাশি গ্রামে গ্রামে সামাজিক প্রতিরোধ মিটিং, মা-সমাবেশ ও যুব সংগঠনকে কাজে লাগালে মাদক ও জুয়ার বিস্তার রোধ করা সম্ভব। গাইবান্ধার সাত উপজেলায় একযোগে এমন কর্মসূচি নিলে তা একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
১৪/০৬/২৬ইং
ক্যাপশন – সংগ্রহীত ছবি
