
মোঃ শরীফুল আজম (বাবু)
গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধা জেলায় নতুন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হিসেবে যোগদান করেছেন জনাব নিত্যানন্দ কুন্ডু। যোগদানের পরপরই তিনি জেলার খাদ্য বিভাগে শৃঙ্খলা ফেরাতে মাঠ পর্যায়ে তৎপরতা শুরু করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় আজ তিনি আলোচিত কন্ঠের প্রতিবেদকের সাথে একান্ত আলাপচারিতায় মিলিত হন এবং তার ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন।
এর আগে তিনি কুমিল্লা জেলায় জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হিসেবে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। সেখানকার সফল অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি গাইবান্ধা জেলাকেও একটি মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে চান।
একান্ত আলাপচারিতায় যা বললেন নতুন ডিসি ফুড:
নিত্যানন্দ কুন্ডু বলেন, আমি অফিসে বসে ফাইল দেখে নয়, মাঠে গিয়ে কাজ করতে বিশ্বাসী। আমার প্রধান লক্ষ্য হবে সরকারি খাদ্য ব্যবস্থাপনায় শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
তার ঘোষিত কর্মপরিকল্পনা সমূহ:
১. এলএসডি ব্যবস্থাপনায় কঠোর নজরদারি: জেলার ৭ উপজেলার সকল এলএসডি (LSD) থেকে প্রতিদিন সঠিক সময়ে রিপোর্ট গ্রহণ, মজুদের সঠিক হিসাব সংরক্ষণ এবং নিজে সরেজমিনে গুদাম পরিদর্শন করবেন। ওসি এলএসডি ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দায়িত্বে অবহেলা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
২. ধান-চালের মান নিয়ন্ত্রণ ও বৈধ মিলার যাচাই: সরকারি গুদামে নিম্নমানের চাল প্রবেশ রোধে কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করা হবে। অবৈধ ও ভুয়া মিল চিহ্নিত করে বৈধ মিলারদের তালিকা হালনাগাদ করা হবে।
৩. কৃষক ও বাজারবান্ধব সংগ্রহ: প্রকৃত কৃষক যাতে ন্যায্যমূল্য পায় তা নিশ্চিত করতে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান ক্রয় কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে এবং বাজার মনিটরিং অব্যাহত থাকবে।
৪. সরকারি বিতরণে স্বচ্ছতা: ওএমএস, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি, ভিজিডি, ভিজিএফসহ সকল সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির চাল সঠিক উপকারভোগীর কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি করা হবে।
এ সময় তিনি গাইবান্ধা জেলার সকল গণমাধ্যমকর্মী, জনপ্রতিনিধি, কৃষক ও মিল মালিকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।
নতুন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের এই কর্মমুখর উদ্যোগে জেলা খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাধারণ কৃষকদের মাঝে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
ক্যাপশন-জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক
