

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে হাবিবুর রহমান হাবিব নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, টাকা নেওয়ার সময় নিজেকে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে কর্মরত হিসেবে পরিচয় দিয়ে ভিজিটিং কার্ড দেখিয়ে তাদের আস্থা অর্জন করেন তিনি। এ ঘটনায় আব্দুল লতিফ নামে আরও এক ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগকারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হাবিবুর রহমান হাবিবের পিতা রফিকুল ইসলাম। তার বাড়ি টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার বীরতারা গ্রামে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে ফেরদৌস আলমের কাছ থেকে বিভিন্ন ধাপে ৫ লাখ, ৪ লাখ ও ১ লাখ টাকা এবং বাদশা মিয়ার কাছ থেকে ১ লাখ টাকা নেওয়া হয়। এছাড়া আরও কয়েকজনের কাছ থেকেও চাকরির আশ্বাস দিয়ে নগদ অর্থ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগকারীরা জানান, অর্থ লেনদেনের বিপরীতে হাবিবুর রহমান হাবিব ২০২২ সালের ১ ডিসেম্বর টাকা প্রদানকারীদের ব্যাংক চেক দেন। তাদের দাবি, প্রায় চার বছর পার হতে চললেও এখন পর্যন্ত প্রতিশ্রুত চাকরি দেওয়া হয়নি এবং বিষয়টিরও কোনো সন্তোষজনক সমাধান হয়নি।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, টাকা নেওয়ার সময় হাবিব নিজেকে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে কর্মরত হিসেবে পরিচয় দেন এবং এ-সংক্রান্ত একটি ভিজিটিং কার্ডও তাদের দেখান। সেই পরিচয়ের ওপর বিশ্বাস করেই তারা চাকরির আশায় টাকা দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, পরবর্তীতে টাকা ফেরত ও চাকরির বিষয়ে যোগাযোগ করলে হাবিব প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে আত্মীয়তা ও যোগাযোগের কথা বলে তাদের ভয়ভীতি দেখান। তবে এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ভুক্তভোগীরা আব্দুল লতিফ নামে আরও এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এ ঘটনায় হাবিবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগ করেছেন। তাদের দেওয়া পরিচয় অনুযায়ী, আব্দুল লতিফ ‘এসবি নিট লিমিটেড’-এর সহকারী পরিচালক এবং আশুলিয়া, সাভার এলাকায় কর্মরত।
দীর্ঘদিন অপেক্ষা করেও চাকরি কিংবা টাকা ফেরত না পাওয়ায় ভুক্তভোগীরা শেষ পর্যন্ত গণমাধ্যমের শরণাপন্ন হয়েছেন। তারা বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং তাদের অর্থ ফেরত পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে হাবিবুর রহমান হাবিব ও আব্দুল লতিফের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে হাবিবুর রহমান হাবিব সত্যিই প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে কর্মরত কি না এবং অভিযোগকারীদের দেখানো পরিচয়পত্র বা ভিজিটিং কার্ডের সত্যতাও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
