8
মায়ের কোল থেকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ, বাবা-হেলপারসহ আটক ৪
মোঃ শরীফুল আজম (বাবু), গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধায় মায়ের কোল থেকে নিয়ে যাওয়ার পর প্রায় দুই মাস নিখোঁজ থাকা ১১ মাস বয়সী শিশু ফাতেমা আক্তার জান্নাতকে অবশেষে উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা হামিদুল মিয়াসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে।
এর আগে শিশুটিকে মায়ের কাছ থেকে নিয়ে যাওয়ার পর ১০ হাজার টাকা দাবি এবং টাকা না দিলে বিক্রি করে দেওয়ার হুমকির অভিযোগ নিয়ে জাতীয় দৈনিক আলোচিত কণ্ঠসহ কালবেলা, জাগো নিউজ, রাইজিংবিডি, চ্যানেল আই অনলাইন ও সমকালসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। একই সঙ্গে শিশুটিকে উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতাও জোরদার হয়।
জেলা ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর আব্দুল মোতালেব সরকারের সূত্রে জানা যায়, রোববার সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে সাদুল্লাপুরের সারবাজার এলাকা থেকে শিশুটির বাবা হামিদুল মিয়াকে আটক করা হয়। পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পীরগঞ্জের ছোট ওমরপুর এলাকা থেকে বাসের হেলপার মজিদ এবং এরপর ফুলছড়ির মদনের পাড়া থেকে মোছা. মোরশেদাকে আটক করা হয়।
পুলিশের অভিযানের ধারাবাহিকতায় ফুলছড়ির মদনের পাড়া ছলের মোড় এলাকার সোলেমান চৌকিদারের বাড়ি থেকে ১১ মাসের শিশু ফাতেমা আক্তার জান্নাতকে উদ্ধার করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ১৭ জুলাই গাইবান্ধা সদর উপজেলার দক্ষিণ ধানঘড়া এলাকায় শিশুটির বাবা হামিদুল মিয়া জুস কিনে দেওয়ার কথা বলে মেয়েকে কোলে নিয়ে বের হন। এরপর তিনি আর ফিরে আসেননি বলে পরিবারের অভিযোগ। দুই দিন পর শিশুটিকে ফেরত দেওয়ার বিনিময়ে ১০ হাজার টাকা দাবি এবং টাকা না দিলে শিশুটিকে বিক্রি করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন শিশুটির মা রুমানা আক্তার।
ঘটনার পর সন্তানকে ফিরে পেতে আদালতের আশ্রয় নেন রুমানা। দীর্ঘ অপেক্ষা ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে ডিবি পুলিশের অভিযানে শিশুটিকে উদ্ধারের ঘটনায় স্বস্তি ফিরেছে পরিবারে।
তবে শিশুটিকে কোথায় রাখা হয়েছিল, তাকে বিক্রির কোনো চেষ্টা হয়েছিল কি না এবং ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের প্রত্যেকের ভূমিকা কী—এসব বিষয় তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে জেলা গোয়েন্দ পুলিশ।
