
ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় তদন্তে বেরিয়ে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তে জানা গেছে, এটি কোনো সাধারণ হামলা ছিল না; বরং দীর্ঘ পরিকল্পনা ও সুসংগঠিত একটি মিশনের অংশ হিসেবে সংঘটিত হয়।
তদন্ত সূত্র জানায়, অভিযুক্ত ফয়সালের পুরো পরিবারসহ অন্তত ২০ জনের একটি গ্রুপ এই ঘটনায় বিভিন্ন দায়িত্বে যুক্ত ছিল। হত্যাচেষ্টা বাস্তবায়ন, অস্ত্র ও অর্থের জোগান, ঘটনার পর পালানোর যানবাহন প্রস্তুত, সীমান্ত পারাপারে সহায়তা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেট পরিবর্তন—সবকিছুই পূর্বপরিকল্পিত ছিল।
র্যাব জানায়, ফয়সালের বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া স্বাক্ষরিত একাধিক চেক এই ঘটনার পেছনে বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তদন্তকারীদের ধারণা, কোনো শক্তিশালী মহলের ইশারায় ওসমান হাদিকে টার্গেট করে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হয়।
আরও জানা গেছে, হামলার আগের রাতে সাভারের গ্রিন জোন রিসোর্টে অবস্থানকালে ফয়সাল তার কথিত বান্ধবীকে বলেন, ‘কাল এমন কিছু হবে, সারা দেশ কাঁপবে।’ ওই সময় রিসোর্টের ২০৪ নম্বর কক্ষে ফয়সাল ও আলমগীর অবস্থান করছিলেন। শুক্রবার সকাল ৮টা ২৭ মিনিটে তারা রিসোর্ট ছেড়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন।
ঘটনার পর পালানোর সময় ফয়সালের বাবা নিজে উপস্থিত থেকে মোটরসাইকেলের ভুয়া নম্বর প্লেট পরিবর্তন করে দেন এবং ছেলেকে পালানোর জন্য গাড়ির ব্যবস্থা করেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। নরসিংদীর একটি বিল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একটি বিদেশি পিস্তল ও ৫২ রাউন্ড তাজা গুলি, যা হামলার প্রস্তুতির মাত্রা স্পষ্ট করে।
এছাড়া আগারগাঁওয়ের কর্নেল গলিতে ফয়সালের বোনের বাসার নিচ থেকে হামলায় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রের দুটি ম্যাগাজিন ও ১১ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে র্যাব। র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ম্যাগাজিন ও গুলি বোনের বাসা থেকে নিচে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।
এ ঘটনায় শুটার ফয়সালের বাবা হুমায়ুন কবির ও মা মোসাম্মাৎ হাসি বেগমকে র্যাব-৩ গ্রেপ্তার করেছে। তদন্তে আরও জানা গেছে, হামলার বিষয়ে আগে থেকেই অবগত ছিলেন ফয়সালের কথিত বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
