3
মোঃ শরীফুল আজম (বাবু)
গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধা সদর উপজেলায় সাদিয়া আক্তার (১৩) নামে অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার বোয়ালি ইউনিয়নের মধ্য রাধাকৃষ্ণপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মৃত্যুর কারণ নিয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
নিহত সাদিয়া আক্তার মধ্য রাধাকৃষ্ণপুর গ্রামের সালাম মিয়া এবং শেফালী বেগমের মেয়ে।
মৃত সাদিয়া আক্তার গাইবান্ধা শহরের আহম্মেদ উদ্দিন শাহ শিশু নিকেতন স্কুল এ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রবিউল ইসলাম মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, রবিবার সন্ধ্যায় সাদিয়াকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে উপস্থিত এক আত্মীয় নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, হাসপাতালে আনার সময় সাদিয়া জীবিত ছিল, তবে তার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। পরে তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৭টার দিকে তারা গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে মরদেহ দেখতে পায়। তবে সে সময় মরদেহের পাশে পরিবারের সদস্য বা নিকট আত্মীয়দের কাউকে পাওয়া যায়নি।
ফলে তাৎক্ষণিকভাবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রতিবেশী রাজু জানান, বাড়িতে পড়াশোনা নিয়ে সাদিয়ার সঙ্গে পরিবারের অভিভাবকদের প্রায়ই কথা কাটাকাটি হতো। এ নিয়ে এর আগেও সে নিজের হাতে আঘাত করে রক্তাক্ত করেছিল বলে তিনি জানান। তবে ঘটনার দিন ঠিক কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানেন না।
গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হোসেন তাকে আলোচিত কন্ঠকে মুঠোফোনে বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। কীভাবে মেয়েটির মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। এটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো ঘটনা—তদন্তের পর বিষয়টি পরিষ্কার হবে।
তিনি আরও বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে জানা যাবে। এরপর তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আলোচিত কন্ঠে প্রতিবেদকের এক প্রশ্নে
ওসি নাজমুল হোসেন আরও বলেন, কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা নিয়ে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও সচেতন হতে হবে। এ বিষয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সচেতনতামূলক চিঠি দেওয়া এবং অভিভাবকদের সঙ্গে পর্যায়ক্রমে সভা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, বর্তমান ডিজিটাল যুগে কিশোর-কিশোরীদের হাতে স্মার্টফোনসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি সহজলভ্য হওয়ায় তাদের মানসিক ও সামাজিক আচরণে নানা পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। এ বিষয়ে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সমন্বিতভাবে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করতে হবে।
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশি তদন্তের পরই সাদিয়া আক্তারের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
