মোঃ ওসমান গনি (ইলি) কক্সবাজার: বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে অবৈধ দখল ও স্থাপনার বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসন। দীর্ঘদিন ধরে সৈকতের বালিয়াড়ি ও সংরক্ষিত এলাকায় গড়ে ওঠা অবৈধ দোকানপাট ও অস্থায়ী স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে এ অভিযানে। বুধবার (আজ) সমুদ্র সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের নেতৃত্ব দেন মোঃ শহিদুল আলম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম), কক্সবাজার। এ সময় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি পুলিশ ও পর্যটন পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সৈকতের সুগন্ধা, লাবণীসহ আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বালিয়াড়ি দখল করে অবৈধভাবে অস্থায়ী দোকান ও বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছিল। এসব স্থাপনা সৈকতের পরিবেশ ও সৌন্দর্য নষ্ট করার পাশাপাশি পর্যটকদের চলাচলেও বিঘ্ন সৃষ্টি করছিল। অভিযান চলাকালে প্রায় ৫০টির বেশি অবৈধ দোকান ও স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এর আগে দখলদারদের স্বেচ্ছায় স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছিল। নির্দেশনা অমান্য করায় পরে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতকে ইতোমধ্যে পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ECA) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী জোয়ার-ভাটার সীমা থেকে প্রায় ৩০০ মিটারের মধ্যে কোনো ধরনের স্থায়ী বা অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ নিষিদ্ধ। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সৈকতের পরিবেশ ও সৌন্দর্য রক্ষায় প্রশাসনের এই উদ্যোগ প্রশংসনীয় হলেও অবৈধ দখল বন্ধে নিয়মিত নজরদারি এবং কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পর্যটন নগরী কক্সবাজারের পরিবেশ রক্ষা ও সৈকত দখলমুক্ত রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
