
স্টাফ রিপোর্টার, ঠাকুরগাঁও:
দলের দুঃসময়ে পাশে থাকা, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা, মামলা-হামলা ও রাজনৈতিক চাপ মোকাবিলা এবং নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় ঠাকুরগাঁও বিএনপির নেতাকর্মীদের আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমীন। দলীয় নেতাকর্মীদের সুখে-দুঃখে পাশে থেকে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করায় তৃণমূলেও তাঁর গ্রহণযোগ্যতা দিন দিন বেড়েছে।
একসময় ঠাকুরগাঁও পৌরসভার সফল মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মির্জা ফয়সাল আমীন বর্তমানে জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সদস্য। রাজনীতির পাশাপাশি খেলাধুলার সঙ্গেও তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি সামাজিক ও ক্রীড়া অঙ্গনেও তাঁর পরিচিতি রয়েছে।
বিএনপির কঠিন সময়গুলোতে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশে থেকে নানা ধরনের সহযোগিতা ও সাংগঠনিক ভূমিকা রাখার কারণে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের কাছে তাঁর প্রতি আস্থার জায়গাটি আরও শক্ত হয়েছে। আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা-মোকদ্দমা, গ্রেপ্তার ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার সময়ে নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নেওয়া এবং তাদের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টি দলের ভেতরে তাঁর নেতৃত্বের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হিসেবে বিবেচিত হয়।
দলীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, মির্জা ফয়সাল আমীন শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা নন, তিনি ঠাকুরগাঁও বিএনপির দীর্ঘদিনের সংগঠক ও পরীক্ষিত নেতৃত্ব। কঠিন সময়ে যিনি নেতাকর্মীদের ছেড়ে যাননি, বরং সামনে থেকে তাদের সাহস জুগিয়েছেন—তাঁর হাতেই আগামী দিনের নেতৃত্ব আরও সুসংগঠিত হবে বলে প্রত্যাশা তৃণমূলের।
এদিকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় তাঁর ছেড়ে দেওয়া ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য হয়েছে। এই আসনে উপনির্বাচনকে ঘিরে ইতোমধ্যে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। সেই আলোচনায় সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত নামগুলোর একটি মির্জা ফয়সাল আমীন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছোট ভাই হিসেবে পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্যের সঙ্গেও তাঁর নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। তবে দলীয় রাজনীতিতে নিজের দীর্ঘদিনের কর্মকাণ্ড, সাংগঠনিক দক্ষতা ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের কারণেই তিনি আলাদা একটি অবস্থান তৈরি করেছেন বলে মনে করেন স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা।
তৃণমূলের একাধিক নেতাকর্মীর ভাষ্য, ঠাকুরগাঁও-১ আসনে এমন একজন প্রার্থী প্রয়োজন, যিনি দলের কঠিন সময়ে নেতাকর্মীদের পাশে থেকেছেন, সংগঠনকে বোঝেন এবং মাঠপর্যায়ের কর্মীদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত। সেই বিবেচনায় মির্জা ফয়সাল আমীনকে তারা সম্ভাব্য শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান।
তবে প্রার্থী মনোনয়নের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। শেষ পর্যন্ত দল কাকে মনোনয়ন দেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। এরই মধ্যে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা—পরীক্ষিত ও আস্থাভাজন নেতৃত্বকে সামনে রেখে আগামী দিনের নির্বাচনী লড়াইয়ে এগিয়ে যাবে বিএনপি।
