দুই প্রধান শিক্ষক গ্রেফতারের প্রতিবাদে শিক্ষক সমিতির প্রতিবাদ সভা


মোঃ আব্দুর রহমান (হেলাল) ভোলা প্রতিনি// দুই প্রধান শিক্ষক গ্রেফতারের প্রতিবাদে ভোলা সদর উপজেলার শিক্ষক সমিতি প্রতিবাদ সভা করে নিন্দা জানিয়েছেন। মঙ্গলবার (১৮ই মার্চ) দুপুর আড়াইটার দিকে ভোলা সদর উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির (কামরুজ্জামান গ্রুপ) কার্যালয় এ প্রতিবাদ সভা করেন শিক্ষক নেতারা। প্রতিবাদ সভায় শিক্ষক সমিতি ভোলা সদর উপজেলার সভাপতি মেজবাহ উদ্দিন আহম্মেদ ও সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার পারভেজ লিখিত বক্তব্যে বলেন, ভোলা জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শহীদ নূরে আলম ও শহীদ আঃ রহিমকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এটা নিন্দনীয় ঘটনা এবং অমানবিক। সত্যিকারের অভিযুক্তদের আমরা বিচার চাই কিন্তু এই মামলার প্রকৃত আসামিদের গ্রেফতার না করে ভোলা সদর উপজেলার কাচিয়া সাহামাদার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ভোলা সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি জনাব মীর আমীর হোসেন এবং রতনপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও ভোলা সদর উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি জনাব মোঃ জাকির হোসেন তালুকদারকে গ্রেফতার করা হয়। এই ঘটনার সাথে নিরপেক্ষ ও নিরীহ শিক্ষকদের জড়ানো এটা শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমরা দাবী করি সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হোক এবং গ্রেপ্তারকৃত নিরপরাধ শিক্ষকদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া হোক। তিন বছর পূর্বে অর্থাৎ ২০২২ সালের ৩১শে জুলাই বিদ্যুতের লোডশেডিং এবং জ্বালানি খাতে ‘অব্যবস্থাপনার’ প্রতিবাদে সারাদেশে বিএনপির কর্মসূচির অংশ হিসেবে জেলা সদরেও বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলের কর্মসূচি ছিলো। সেদিন নেতা-কর্মীরা জেলা কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করে মিছিলের প্রস্তুতি নিলে পুলিশের সঙ্গে সংঘাত বাধেঁ। পুলিশ-বিএনপির সংঘর্ষে ভোলা জেলা ছাত্রদল সভাপতি নুরে আলম ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মো. আবদুর রহিম নিহত হয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ভোলা সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। অন্যদিকে শহীদ আব্দুর রহিমের স্ত্রী বাদী হয়ে ভোলা চীফ জুডিশিয়াল ম্যাসিষ্ট্রেট কোর্টে তৎকালীন সদর থানার ওসি (তদন্ত) আরমানকে এক নাম্বার আসামি করে পুলিশের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশের দায়ের করা মামলায় এই দুই শিক্ষকদের অজ্ঞাত আসামি দেখিয়ে ১৬ই মার্চ দিবাগত রাত গ্রেফতার করে পরেরদিন কোর্টে প্রেরণ করা হয়েছে। এসময় উপস্থিত ছিলেন, ইলিয়াছ মিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, গঙ্গাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, তইয়েবা খাতুন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন। ভেদুরিয়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাদিসুর রহমান ও শান্তির হাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তোফায়েল আহমেদসহ উপজেলার অন্যান্য মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকগণ, সহকারী শিক্ষকবৃন্দসহ ও আটককৃত দুই প্রধান শিক্ষকের পরিবারের সদস্যরা। এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে গ্রেফতার হওয়া প্রধান শিক্ষক মীর আমির হোসেনের ছেলে বলেন, আমার বাবার দীর্ঘ কর্মজীবনে কখনোই তার বিরুদ্ধে কোন মামলা হয়নি কিন্তু ঘটনার দিন আমার বাবাকে চারজন ননইউনিফর্ম ডিবি পরিচয় দিয়ে তুলে এনে শহীদ নূরে আলম হত্যা মামলার অজ্ঞাত আসামী দেখিয়ে কোর্টে প্রেরণ করেন। শহীদ আব্দুর রহিম ও শহীদ নূরে আলমের হত্যা মামলার প্রকৃত আসামী না ধরে নিরপরাধ আমার বাবাকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তার বাবাসহ প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন তালুকদারের মুক্তি দাবি করেন।