বিশেষ প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার নীলকুঠি গ্রামে ঘটেছে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। ঢাকায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ছেলের মৃত্যুর খবরে শোক সইতে না পেরে কিছু সময়ের ব্যবধানে মৃত্যুবরণ করেছেন এক অসহায় গর্ভধারিণী মা। ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় শোকে ভেঙে পড়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বাবা।
মৃত আশরাফুল ইসলাম (২৮) সাঘাটা উপজেলার ভরতখালী ইউনিয়নের নীলকুঠি গ্রামের বাসিন্দা।
তিনি ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২৩জানুয়ারি) সকাল আনুমানিক ১১ টার পর মসজিদে জুম্মার নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হওয়ার পর তিনি হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হন। দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হলেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে আশরাফুল ইসলামের মৃত্যুসংবাদ গ্রামে পৌঁছায়। খবরটি শোনামাত্রই তার মা আছিয়া বেগম (৪৮) চিৎকার দিয়ে ওঠেন এবং মুহূর্তের মধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্বজনরা জানান, ছেলের মৃত্যুর শোক তিনি সহ্য করতে পারেননি। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
চোখের সামনে স্ত্রীকে হারানো এবং ঢাকায় ছেলের মৃত্যুসংবাদে আশরাফুল ইসলামের বাবা আব্দুর রহিম উদ্দিনও গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। বর্তমানে তিনি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ বিষয়ে আশরাফুলের চাচা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আশরাফুল খুব দায়িত্বশীল ছেলে ছিল। পরিবারের হাল ধরতে ঢাকায় কষ্ট করে চাকরি করত। শুক্রবার নামাজের সময় এমনভাবে তাকে হারাতে হবে, এটা আমরা কল্পনাও করিনি। ছেলের শোকেই তার মা চলে গেল, একদিনে আমাদের পরিবার যেন সব হারালো।
এলাকাবাসী ও স্থানীয় সাংবাদিক সরণ রহমান বলেন, ‘এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক ঘটনা। একদিনে মা–ছেলের মৃত্যু পুরো এলাকাকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। পরিবারটির প্রতি আমাদের সবার গভীর সমবেদনা।’
এখনো আশরাফুল ইসলামের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়নি। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মরদেহ পৌঁছালে মা ও ছেলের দাফন একসাথেই সম্পন্ন করা হবে।
একই পরিবারের দুইজনের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে নীলকুঠি গ্রামে শোকের মাতম চলছে।
মোঃ শরীফুল আজম (বাবু)
