
গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধায় দুর্বৃত্তের কুড়ালের আঘাতে জেলা জজকোর্টের মুহুরী অমিতাভ চন্দ্র রায় সুজন (৩৫) নিহত হয়েছেন। তিনি খামার বল্লমঝাড় গ্রামের বাসিন্দা এবং মৃত নিরঞ্জন চন্দ্র সরকারের ছেলে। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সদর উপজেলার বল্লমঝাড় ইউনিয়নের খামার বল্লমঝাড় গ্রামে সন্ধ্যা ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়রা জানান । এ ঘটনায় লিমন কুমার নামে এক প্রতিবেশিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে এসেছে পুলিশ ।
ঘটনাস্থলে থাকা সদর থানার এসআই ফজলুর রহমান জানান, নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা প্রতিবেশী তাকে জানিয়েছেন, নিজ বাড়িতে জজকোর্টের এক আইনজীবীর সহকারী সুজন চন্দ্রকে দুর্বৃত্তরা মাথায় কুড়াল দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে পরিবারের লোকজন ও প্রতিবেশীরা রক্তাক্ত সুজনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু পথিমধ্যে পলাশবাড়িতে তার মৃত্যু হয়।তিনি আরো বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশীয় কুড়াল উদ্ধার করেছে। পুলিশ ধারণা করাছে জব্দকৃত কুড়ালটি দিয়েই তাকে আঘাত করা হয়ে থাকতে পারে।
নিহত সুজনের মা সিন্দু রানী আলোচিত কন্ঠকে বলেন, ‘স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছে সম্প্রতি ১১ শতক জমি কেনেন সুজন। প্রতিবেশি বিমল কুমারের সন্ত্রাসী প্রকৃতির ছেলে লিমন কুমার ওই জমি কিনতে না পেরে ক্ষীপ্ত হয়ে ওঠে। এর আগেও তাদের মধ্যে অন্য একটি জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। কিছুদিন আগে লিমন সুজনকে হত্যার হুমকি দেয়। তারপরই এই ঘটনা ঘটল। তার সন্দেহ হামলাকারী লিমন হতে পারে । ‘
স্থানীয় হামিদ বলেন,কে বা কারা মেরেছে আমরা দেখতে পারিনি। যারাই মেরেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
নিহত সুজনের স্ত্রী দিপা রানী আলোচিত কন্ঠকে বলেন, যে আমার স্বামীকে হত্যা করেছে তার আমি শাস্তি চাই।প্রতিবেশী লিমন আমার স্বামীকে দীর্ঘদিন থেকে হুমকি দিয়ে আসছে এছাড়া তার সাথে আর কোন শত্রুতা নেই কারো।
গাইবান্ধা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, স্থানীয়দের খবরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় । জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ থেকে এই ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে । জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক লিমনকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
সুষ্ঠু তদন্ত করে অপরাধীকে আইনের আওতায় নেওয়া হবে। নিহতের লাশ গাইবান্ধা সদর হসপিটালের মর্গেং পাঠানো হয়েছে।
মোঃ শরীফুল আজম (বাবু)
গাইবান্ধা
ক্যাপশন-নিহত সুজনের স্ত্রী দিপা রানী ও মা সিন্দু রানী
