আসাদুজ্জামান খান লিপন, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি :
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে কাস্তুল এলাকায় সংখ্যালঘু পরিবারের জমি দখল অভিযোগের প্রতিবাদে অভিযুক্ত মিজানুর রহমান গং বৈধ কাগজপত্রের ভিত্তিতে জমির মালিকানা দাবি করেছেন।
অভিযুক্ত মিজানুর রহমান গংয়ের দাবি, একটি মহল ইচ্ছাকৃতভাবে সংখ্যালঘু ইস্যু তৈরি করে মুসলিম পরিবারের বৈধ সম্পত্তি দখলের পাঁয়তারা করছে। বাস্তবে এখানে হিন্দু-মুসলিম বিভেদের কোনো বিষয় নেই শুধু জমির মালিকানা নিয়েই বিরোধ।
মিজান গংয়ের কাগজপত্র অনুযায়ী জানা যায়, তারা ২০০২ সালের ২১ জুলাই ৮২৫ নং সাফ কাওলা রেজিস্ট্রি দলিলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট জমি এসএ রেকর্ডীয় মালিকের কাছ থেকে বৈধভাবে ক্রয় করেন এবং ক্রয়ের পর থেকে জমিটি ভোগদখলে রয়েছেন। পরবর্তীতে বিআরএস রেকর্ডে এসএ মালিকের সকল ওয়ারিশের নাম অন্তর্ভুক্ত না থাকায় তারা কিশোরগঞ্জ ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে ২০১৩ সালের ১৬ জুলাই মামলা (নং- ২৮০৯/২০১৩) দায়ের করেন। মামলায় ট্রাইব্যুনাল বাদীর পক্ষে ডিক্রি প্রদান করে এবং জেলা প্রশাসককে খতিয়ান সংশোধনের নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী অষ্টগ্রাম সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে মিস কেস (নং- ০৩(১৩)/২০২৪-২০২৫) দায়ের করে খতিয়ান সংশোধন করা হয়। এতে পূর্বের খতিয়ান নং- ৩৮৪ ভেঙে নতুনভাবে ৩৮৪/১ নং খতিয়ান তৈরা করা হয়।
মিজান গং বলেন, আমরা সম্পূর্ণ বৈধ প্রক্রিয়ায় জমির মালিকানা অর্জন করেছি। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী রেকর্ড সংশোধন করা হয়েছে। এখানে জোরপূর্বক দখলের কোনো প্রশ্নই আসে না।
একই এলাকার বাসিন্দা সার্ভেয়ার উবাইদুল্লাহ বলেন, বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষই খরিদা সূত্রে মালিক। মিজান গং ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিআরএস রেকর্ডীয় খতিয়ান নং- ৩৮৪ সংশোধন করে নতুন ৩৮৪/১ খতিয়ান তৈরি করেছেন। মোট ২৮ শতাংশ জমির মধ্যে ২২ শতাংশ মিজান গংয়ের মালিকানায় রয়েছে বাকি ৬ শতাংশ অন্যদের। দলিল অনুযায়ী এখানে নির্দিষ্টভাবে কোনো একক সংখ্যালঘু মালিকানার সীমানা নেই। এখানে হিন্দু-মুসলিম উভয়ের জমি রয়েছে।
তিনি বলেন, আমাদের এলাকায় সংখ্যালঘু-সংখ্যাগরিষ্ঠ এমন কোনো বিভাজন নেই। সবাই মিলেমিশে বসবাস করি। মামলার বাদী নিজেও পুরো বিষয় সম্পর্কে অবগত নন। পর্দার আড়াল থেকে অন্য কেউ জমি সংক্রান্ত একটি বিরোধকে সাম্প্রদায়িক রূপ দিতে কাজ করছে।
স্থানীয় আরেক বাসিন্দা মঞ্জুর এলাহী বলেন, এই এলাকায় সংখ্যালঘু বলে আলাদা কিছু নেই। ধর্ম ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু আমরা সবাই ভাইয়ের মতো চলি। কোনো সম্প্রদায়ের ওপর অন্যায় হলে এলাকাবাসী একসঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
অন্যদিকে বাদী সুধীর দাস বলেন, আমি ১৪৪ ধারায় মামলা করেছি। কেউ আমাদের বাড়িঘরে হামলা করেনি। তারা কতটুকু জমি কিনেছে আমি জানি না, তবে আমার দৃষ্টিতে তারা তাদের প্রাপ্যের চেয়ে বেশি দখল করেছে।
