ভুরুঙ্গামারী উপজেলার স্টাফ রিপোর্টার: হাসান মাহমুদ জয়
কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার সোনাহাট স্থলবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক সচল রাখতে ২০১৯ সালে শুরু হয়েছিল নতুন পাটেশ্বরী ব্রিজের নির্মাণকাজ। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, দীর্ঘ সাড়ে ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো শেষ হয়নি ব্রিজটির নির্মাণকাজ। এতে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে স্থানীয় জনগণের মধ্যে।
স্থানীয়দের ভাষায়, “এ যেন কচ্ছপগতির উন্নয়নের এক বাস্তব উদাহরণ।” অনেকেই মন্তব্য করছেন, একটি সাধারণ সেতু নির্মাণে এত দীর্ঘ সময় লাগা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়
“এটি তো আর দেশের বৃহত্তম কোনো সেতু নয় যে নির্মাণে বছরের পর বছর সময় লাগবে। নতুন ব্রিজের কাজ শেষ না হওয়ায় মানুষকে এখনো জরাজীর্ণ পুরাতন ব্রিজ ব্যবহার করতে হচ্ছে। প্রতিদিন মাইলের পর মাইল যানজট সৃষ্টি হচ্ছে, আর জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।”
শুধু ব্রিজ নয়, নতুন সেতুর জন্য নির্মিত সংযোগ সড়কেও দেখা দিয়েছে নানা অনিয়মের চিত্র। নিম্নমানের ও দায়সারা কাজের কারণে ইতোমধ্যেই রাস্তার বিভিন্ন অংশ ভেঙে ধসে যেতে শুরু করেছে। ফলে এলাকাবাসী বাধ্য হয়ে বহু আগে মেয়াদোত্তীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ পুরাতন ব্রিজ দিয়েই যাতায়াত করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে এবং যানবাহন বিকল হওয়ার ঘটনাও বেড়েছে। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করছেন তারা।
এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ শ্রমিক অধিকার পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির অর্থ সম্পাদক এবং কুড়িগ্রাম নদী রক্ষা ও চর উন্নয়ন আন্দোলন, ভুরুঙ্গামারী শাখার সাধারণ সম্পাদক মোঃ আঃ কুদ্দুস আলী।
তিনি বলেন,
“সাড়ে ছয় বছর ধরে এই অঞ্চলের মানুষ সীমাহীন দুর্ভোগ ও আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছে। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, কুড়িগ্রাম-১ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর উদ্যোগ আমরা দেখতে পাচ্ছি না। আমরা মাননীয় এমপি আনোয়ারুল ইসলাম মহোদয়ের সুদৃষ্টি কামনা করছি, যাতে দ্রুত ব্রিজটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হয় এবং জনগণের দুর্ভোগের অবসান ঘটে।”
সোনাহাট স্থলবন্দরের গুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুত নতুন পাটেশ্বরী ব্রিজের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা এবং ভাঙনধরা সংযোগ সড়কের জরুরি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন ভুরুঙ্গামারীর সর্বস্তরের জনগণ। তাদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও অর্থনৈতিক ক্ষতির ঝুঁকি আরও বাড়বে।
প্রতিবেদন: হাসান মাহমুদ জয়, ভুরুঙ্গামারী উপজেলার প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম।
