
মোঃ শরিফুল ইসলাম লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধিঃ
নাটোরের লালপুরে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ও তাদের বাবার হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতরা হলো তুহিন (৮) ও তুষার (৪), তারা একই পরিবারের দুই ভাই।
শনিবার (১৮ জুলাই) উপজেলার বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের মোহরকয়া নতুনপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় আট মাস আগে তুলি বেগম ও মরজেম আলীর বিবাহবিচ্ছেদ হয়। পরে তারা পুনরায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। গত ১৩ জুলাই পারিবারিক বিরোধের জেরে তুলি বেগম দুই সন্তানকে স্বামীর কাছে রেখে বাবার বাড়িতে চলে যান। এরপর থেকে দুই ছেলে তুহিন ও তুষারকে নিয়ে বাড়িতে ছিলেন মরজেম আলী।
পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাতে বড় ছেলে তুহিন চিড়া ও কলা খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। একই রাতে ছোট ছেলে তুষারকে সঙ্গে নিয়ে মরজেম আলী ভাত ও আলু ভর্তা খেয়ে ঘুমান। রাত আনুমানিক ৩টার দিকে তুহিন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে বমি শুরু করলে দ্রুত তাকে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে সকালে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই একই দিন দুপুরে ছোট ছেলে তুষারও একই ধরনের উপসর্গ নিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাকে প্রথমে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
এদিকে ছোট ছেলে তুষারের মরদেহ বাড়িতে আনার পর বাবা মরজেম আলীও হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিবারের সদস্যরা তাকে প্রথমে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, পরে নাটোর সদর হাসপাতাল হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ঘটনার পর নিহত দুই শিশুর মা তুলি বেগম শনিবার দুপুরে লালপুর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছেন।
নিহতদের নানা হাবিবুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, “আমার দুই নাতিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই।”
লালপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। নিহত তুষারের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নাটোর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, একই পরিবারের দুই শিশুর স্বল্প সময়ের ব্যবধানে মৃত্যু এবং বাবার অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
