আলোচিত কন্ঠ ডেক্স: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য ফরহাদ হোসেন আজাদকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আপত্তিকর ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রতিমন্ত্রী দাবি করেছেন, এটি সম্পূর্ণ ভুয়া এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের অংশ।সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে একজন নারীর সঙ্গে আপত্তিকর পরিস্থিতিতে প্রতিমন্ত্রীকে দেখানো হয়েছে। পরে সেটি বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও অ্যাকাউন্ট থেকে ব্যাপকভাবে প্রচার করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত কোনো স্বীকৃত ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠান ছবিটির সত্যতা নিশ্চিত করেনি।
বহিষ্কারের পর গাজী নজরুলকে ঘিরে নতুন অভিযোগ, তদন্তের দাবি
রাজনৈতিক অঙ্গনে এ ঘটনাকে ঘিরে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিএনপির বিভিন্ন নেতাকর্মীর দাবি, সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের একটি ব্যক্তিগত ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর তার পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে ফরহাদ হোসেন আজাদকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ওই ভিডিও প্রকাশের পর গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।
এদিকে ভাইরাল হওয়া ছবি সম্পর্কে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ পরিকল্পিতভাবে এমন অপপ্রচার চালিয়ে থাকতে পারে।
ভাইরাল ছবিটি পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, এটি কোলাজধর্মী। একটি আপত্তিকর দৃশ্যের সঙ্গে প্রতিমন্ত্রীর আলাদা একটি প্রতিকৃতি যুক্ত করা হয়েছে। ছবিতে আলো-ছায়া, মুখাবয়ব, শরীরের অনুপাত ও সম্পাদনার বেশ কিছু অসামঞ্জস্য চোখে পড়ে। তবে কেবল দৃশ্যগত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে ছবিটি ভুয়া বা আসল বলে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক এআই ও উন্নত ডিজিটাল এডিটিংয়ের মাধ্যমে এ ধরনের ছবি সহজেই তৈরি করা যায়।
এ বিষয়ে রিউমর স্ক্যানারের জ্যেষ্ঠ ফ্যাক্টচেকার তানভীর মাহতাব আবীর গণমাধ্যমকে বলেন, ভাইরাল হওয়া কনটেন্টগুলো এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই করা হয়নি। কারণ যাচাইয়ের জন্য মূল বা উচ্চমানের (ক্লিয়ার) ছবি প্রয়োজন, কিন্তু যেসব ছবি প্রথমে ছড়ানো হয়েছে সেগুলোতে নারীর মুখ ব্লার করা এবং বিভিন্ন অংশ ঢেকে দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রকৃত উৎস বিশ্লেষণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
তিনি জানান, যে ফেসবুক পেজ থেকে প্রথম ছবিগুলো প্রচার করা হয়, সেটি নিজেকে স্যাটায়ার পেজ হিসেবে পরিচয় দিলেও অতীতে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। মূল ছবি সংগ্রহের জন্য ওই পেজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
তানভীর মাহতাব আবীরের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নিয়ে বিতর্কিত ঘটনা সামনে এলেই সামাজিক মাধ্যমে পাল্টা বয়ান তৈরির চেষ্টা দেখা যায়। কোনো ঘটনা সত্য হোক বা মিথ্যা, ফ্যাক্ট-চেক সম্পন্ন হওয়ার আগেই বিভিন্ন পক্ষ নিজেদের মতো করে ন্যারেটিভ ছড়িয়ে দেয়। এতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হন, তেমনি ঘটনায় জড়িত নারী বা অন্য ব্যক্তিরাও সামাজিক হয়রানি ও মানহানির ঝুঁকিতে পড়েন।
