
গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে গাইবান্ধা জেলার পাঁচ আসনে প্রচারণা চলছে পুরোদমে। বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় পার্টির হেভিওয়েট প্রার্থীদের সঙ্গে এবার ভোট যুদ্ধে নেমেছেন দুই নারী প্রার্থী মোছা. ছালমা আক্তার ও রাহেলা খাতুন। ৪০ জন প্রার্থীর মধ্যে ২ জন নারী এই নির্বাচনি মাঠে অংশগ্রহণ করেছেন।এতে তাদের উপস্থিতি ভোটের সমীকরণে যোগ হয়েছে নতুন মাত্রা।
গাইবান্ধার দুটি আসনে ১৫জন পুরুষ প্রার্থী সাথে ভোট যুদ্ধে লড়ছেন ২ নারী প্রার্থী।তাদের মধ্যে একজন হলেন,বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) থেকে কাঁচি প্রতীকে রাহেলা খাতুন ও আরেকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে নেমেছেন মোছা. ছালমা আক্তার।
জেলায় পাঁচ আসনে ৪০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে ৩২ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনীত এবং ৮ জন স্বতন্ত্র। পাঁচটি আসনে ভোটার সংখ্যা মিলিয়ে প্রায় ২১ লাখের বেশি। ভোটারদের ঘরে ঘরে গিয়ে প্রার্থীরা দিচ্ছেন বিভিন্ন ধরনের প্রতিশ্রুতি ও স্বপ্ন ।
গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে কলস প্রতীক নিয়ে ভোটের মাঠে নেমেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মোছা. ছালমা আক্তার শিল্পী।তিনি এ আসনে সাতজন পুরুষ প্রার্থীর সাথে ভোটের মাঠে লড়ছেন। তিনি সুন্দরগঞ্জ উপজেলার মধ্য শান্তিরাম গ্রামের বাসিন্দা, এবিএম মিজানুর রহমানের স্ত্রী। এ আসনে বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় পার্টির মহাসচিবসহ মোট আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
ছালমা আক্তার বলেন, বিগত সময়ে এক এমপি ছিলেন যিনি শুধু টেলিভিশনের টকশোতে বড় বড় কথা বলতেন তবে এই সুন্দরগঞ্জের কোন উন্নয়নই হয় নি। তবে জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে জয়ী করলে অবশ্যই এ এলাকা শিক্ষা,বেকারত্ব সমস্যার সমাধান, নদী ভাঙ্গন রোধ, হাসপাতাল সংস্কার ও এই এলাকার বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কাজ করব ইনশাল্লাহ।
অপরদিকে গাইবান্ধা-৫ (ফুলছড়ি-সাঘাটা) আসনে বাসদ (মার্কবাদী) থেকে কাঁচি প্রতীক নিয়ে করছেন রাহেলা খাতুন। তিনি গাইবান্ধা শহরের থানাপাড়া এলাকার বাসিন্দা।এই আসনে তিনি ৮ জন পুরুষ প্রার্থীর সাথে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন।
রাহেলা খাতুন বলেন, এই এলাকায় দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের ডেপুটি স্পীকার থাকলেও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশিত উন্নয়ন হয়নি। আমি নির্বাচিত হলে নদীভাঙন রোধ, কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে গ্রাম পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেব।এছাড়া বেকারত্ব দূর করার জন্য কর্মসংস্থার ব্যবস্থা করব।
রাজনৈতিক বিশ্লষকদের মতে, হেভিওয়েট প্রার্থীদের ভিড়ে নারী প্রার্থীদের অংশগ্রহণ ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা ও আগ্রহ বাড়াচ্ছে। নারী ভোটারদের পাশাপাশি তরুণ ভোটারদের একটি অংশ উন্নয়ন ও স্বচ্ছ রাজনীতির প্রতিশ্রুতিতে আকৃষ্ট হচ্ছে।
স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, গাইবান্ধার নির্বাচনি মাঠে নারী প্রার্থীদের এই উপস্থিতি ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে অনুপ্রেরণা জোগাবে।
পুরুষপ্রধান রাজনীতির মাঠে দুই নারী প্রার্থীর উপস্থিতি অনেক ভোটারের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।সুন্দরগঞ্জের মধ্য শান্তিরাম গ্রামের গৃহবধূ জেসমিন বেগম বলেন, আমরা নারীরা রাজনীতিতে কম আসি। ছালমা আপা ভোটের মাঠে নামায় আমাদের মেয়েদেরাও খুশি হয়েছি। তিনি যদি জেতেন, অবশ্যই নারীদের নিয়ে কাজ করবেন। এছাড়া শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও এলাকার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন উন্নয়নে কাজ করবেন এই আশা করি।
ফুলছড়ির এক তরুণ ভোটার আমিনুল ইসলাম বলেন, রাহেলা খাতুন যেভাবে নদীভাঙন আর কর্মসংস্থানের কথা বলছেন, তা আমাদের মতো তরুণদের ছুঁয়ে যায়। বড় দলের প্রার্থীরা অনেক কথা বলেন, কিন্তু তিনি ঘরে ঘরে গিয়ে মানুষের কথা শোনেন, এটা আলাদা।এছাড়া অসহায় মানুষের বিপদের সময় তাকে আমি অনেক প্রতিবাদ করতে দেখেছি। তিনি একজন প্রতিবাদী মানুষ সে যদি ক্ষমতায় আসে অবশ্যই জনগণের জন্য ভালো কিছু করবে।
এদিকে সাঘাটা বাসিন্দা রেশমা বলেন, তাকে তেমনভাবে চিনি না তবে সে নারী হিসেবে যে আটজন পুরুষের সাথে করছে। এটি আসলে প্রশংসার দাবিদার। সে জয়ী হতে পারলে অবশ্যই নারীদের নিয়ে কাজ করবে।
স্থানীয় শিক্ষাবিদ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, এই দুই নারী প্রার্থীর অংশগ্রহণ শুধু ভোটের লড়াই নয়, এটি নারীর ক্ষমতায়নেরও একটি প্রতীক। তাদের মতে, গাইবান্ধার গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত নারীদের রাজনৈতিক সচেতনতা বাড়াতে এই সাহসী পদচারণা দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।তাদের এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ জেলায় বোঝাচ্ছে নারীরাও পারে, পুরুষের সাথে লড়াই করতে।
মোঃ শরীফুল আজম (বাবু)
২৮.১.২৬ ইং
ক্যাপশন -দুই নারী প্রার্থী মোছা. ছালমা আক্তার ও রাহেলা খাতুন ছবি।
