
গাইবান্ধা প্রতিনিধি :
গাইবান্ধায় হামের উপসর্গে শিশুসহ মোট ৭৪ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছে । এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নতুন করে ৪ জন শিশু ভর্তি হয়েছে।তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে দুইজন চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে চলে গিয়েছে। গাইবান্ধার সাতটি উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রবিবার (১২ এপ্রিল) বিকাল পর্যন্ত নতুন করে হামের উপসর্গ নিয়ে আসেনি কোনো রোগী।
বুধবার ১২ এপ্রিল দুপুরে জেলা সিভিল সার্জন ডা. রফিকুজ্জামান কার কার্যালয় আলোচিত কন্ঠকে এ তথ্য জানান। তবে জেলায় এখনো নমুনা পরীক্ষার ফলাফলে হামের কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি।
জেলা সিভিল সার্জন অফিস স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সুত্রে জানা যায়,বর্তমানে জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি থাকা ৪ জনের মধ্যে একজন ১৬ বছর বয়সী ছেলে এবং ৭-৯ বছর বয়সী দুই মেয়ে শিশু রয়েছে। জ্বর, ব্যথা ও কাশিসহ হামের উপসর্গ নিয়ে তারা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং তাদের মধ্যে দুইজন প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে গিয়েছে।গত ২৫ মার্চ বুধবার থেকে আজ ১২ এপ্রিল রবিবার পর্যন্ত মোট ৭৪ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন।তথ্য অনুযায়ি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় সন্দেহভাজন হাম রোগী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছে ১৯ জন, গাইবান্ধা সদরে ১৮ জন ,সাঘাটায় ৫ জন,ফুলছড়িতে ৪ জন,গোবিন্দগঞ্জে ১৮ জন,পলাশবাড়ি ৪ জন ও সাদুল্যাপুর ৬ জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রবিবার পর্যন্ত এই রোগীরা চিকিৎসা নিয়েছেন।চিকিৎসকরা জানান, জ্বর ও ব্যথার মতো উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। তাদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তাদের রিপোর্ট পেতে ১০-১৫ দিন সময় লাগতে পারে।
গাইবান্ধা জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. হারুন অর রশিদ বলেন, বর্তমানে সদর হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রোগীদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি থাকা ৪ জনের মধ্যে একজন ১৬ বছর বয়সী মিথুন সদর উপজেলার দাড়িয়াপুড়ের বাসিন্দা। মিলন মিয়া আলোচিত কন্ঠকে বলেন, ৬ বছরের শিশুর হামের লক্ষণ দেখা দিলে তারা চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে গেলে পরে আমার বড় ছেলেও হয়।এজন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতারে ভর্তি করিয়েছি।
এদিকে, সুন্দরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের মধ্যে নুরজাহান (৩০) বলেন,প্রচন্ড জ্বর ও মাথা-ব্যাথা ছিল।এখানে চিকিৎসা নিয়ে এখন আমি সুস্থ।শুধু ছোট শিশুদেরই এ রোগের উপসর্গ দেখা দিচ্ছে তেমন না বড়দেরও দেখা যাচ্ছে এমন উপসর্গ।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. রফিকুজ্জামান আলোচিত কন্ঠকে বলেন, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত জেলায় মোট ৭৪ জন রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে সদর ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর জরুরি বিভাগ, ইনডোর ও আউটডোরে চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে এসব রোগীর নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হলে সবগুলোর ফলাফল নেগেটিভ এসেছে।
তিনি আরও বলেন, গাইবান্ধায় হামের পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে এবং ফিল্ড পর্যায়ে নজরদারি কার্যক্রম চলমান আছে। হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা রোগীদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
মোঃ শরীফুল আজম (বাবু)
গাইবান্ধা
১২.৪.২৬ ইং
ক্যাপশন- জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি থাকা ৪ জনের মধ্যে একজন ১৬ বছর বয়সী মিথুনের ছবি।
