
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি | ১২ নভেম্বর ২০২৫, মঙ্গলবার সন্ধ্যা
বিএনপি কোনো প্রতিশোধের রাজনীতি করতে চায় না বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ যেভাবে মামলা করেছে, আমরা সেভাবে মামলা করতে চাই না। যদি মামলা হয়ে থাকে, তবে আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি, সমস্ত মামলা তুলে নেওয়া হবে।’
মঙ্গলবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের শাপলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তবে তার এই বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর সন্ধ্যায় লিখিত বিবৃতি দিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আমার বক্তব্যকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি বলেছি, আমরা প্রতিশোধের রাজনীতি করতে চাই না এবং আওয়ামী লীগের মতো হয়রানিমূলক মামলা করব না। আমি আরও বলেছি, এই ইউনিয়নে যদি কোনো হয়রানিমূলক মামলা থাকে, তা আমরা তুলে নেব। কিন্তু দেশব্যাপী মামলা তুলে নেওয়ার বিষয়ে আমি কোনো বক্তব্য দিইনি।’
বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল গণমাধ্যমে প্রচারিত বিভ্রান্তিকর তথ্য সম্পর্কে দলের নেতা-কর্মী ও জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
শান্তির রাজনীতি ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কথা
মতবিনিময় সভায় বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা শান্তির রাজনীতি করতে চাই, প্রতিশোধ নয়। বাংলাদেশে শান্তি দেখতে চাই, অশান্তি নয়। সেই কারণেই আমরা নির্বাচন চেয়েছি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জনগণের হাতে ক্ষমতা দিয়ে চলে যাবে—এটাই আমাদের লক্ষ্য।’
তিনি আরও বলেন, গত ১৫ বছরে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অসংখ্য হয়রানিমূলক মামলা ও দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে। এখন পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।জামায়াতের প্রস্তাবিত পিআর পদ্ধতির সমালোচনা জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি দলের আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (PR) পদ্ধতির দাবির সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন,
‘তারা এমন একটি সিস্টেম চায়, যেখানে ভোট হবে এক জায়গায়, এমপি হবে অন্য জায়গায়—এটা কি আমরা মেনে নিতে পারি? বাংলাদেশে আমরা এক ব্যক্তি, এক ভোটের গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি।
তিনি জামায়াতের এই প্রস্তাবকে ‘অগণতান্ত্রিক ও জবরদস্তিমূলক’ বলে আখ্যা দেন।সংখ্যালঘুদের প্রতি আশ্বাস
সভায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন,
‘আপনারা আতঙ্কে থাকবেন না। বিএনপি সব ধর্মের মানুষের পাশে ছিল, আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। বাংলাদেশে আমরা কোনো বিভেদ সৃষ্টি হতে দেব না।’সভায় উপস্থিত ছিলেন
জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন, সাধারণ সম্পাদক মো. পয়গাম আলী, সাবেক সহসভাপতি আল মামুন আলমসহ দলের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
