কানাইঘাট প্রতিনিধিঃ সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার ঝিঙ্গাবাড়ী ইউপির নারাইনপুর আগফৌদ গ্রামের আজিজুর রহমান (৩৮) হত্যা মামলার ৪নং আসামী একই গ্রামের কুদরত উল্লাহর পুত্র বিলাল আহমদ (৪৮) কে গ্রেফতার করেছে কানাইঘাট থানা পুলিশ।
শনিবার (১ আগস্ট) রাত ১টার দিকে র্যান-৯ এর সহায়তায় সিলেট জেলার মোগলাবাজার থানা এলাকা থেকে বিলাল আহমদকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে থানার অফিসার ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন। ধৃত আসামীকে রবিবার আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ।
জানা যায়, গত ১৭ জুলাই জুমআর নামাজ পড়ে নিজ মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় পূর্ব শত্রæতার জের ধরে নারাইনপুর আগফৌদ গ্রামের মৃত খলিলুর রহমানের পুত্র আজিজুর রহমানকে ধারালো অস্ত্র, লোহার রড, চাকু দিয়ে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে একই গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য ইয়াহিয়া, আব্দুর রহিমের নেতৃত্বে মসজিদ প্রাঙ্গনে হামলা করা হয়। হামলাকারীরা আজিজুর রহমানের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে মৃত ভেবে ফেলে যায়। পরে তাকে আশংকাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় আজিজুর রহমানের মা করিবুন নেছা বাদী হয়ে ১০জনকে আসামী করে কানাইঘাট থানায় মামলা দায়ের করেন। ঘটনার দিন থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাবেক ইউপি সদস্য ইয়াহিয়া ও আব্দুর রহিমকে গ্রেফতার করেন। পরে তারা ১১ দিন জেল খেটে জামিনে বেরিয়ে আসে। চিকিৎসাধীন আজিজুর রহমানের অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউ বিভাগে ভর্তি করা হয়। সর্বশেষ মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে সজ্ঞাহীন অবস্থায় গত শুক্রবার ভোরে মারা যান আজিজুর রহমান।
লাশের ময়না তদন্তের পর শুক্রবার রাতে নিজ গ্রামে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। আজিজুর রহমানের লাশ বাড়িতে নিয়ে আসার পর তার আত্মীয়-স্বজন ও এলাকার লোকজন পরিকল্পিত ভাবে নির্মম ভাবে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত আসামীদের দ্রæত গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবী জানান।
থানার ওসি আমিনুল ইসলাম জানান, আজিজুর রহমানকে গুরুতর আহত করার পর ঘটনার সাথে জড়িত ইয়াহিয়া ও আব্দুর রহিমকে গ্রেফতার করা হয়। কিন্তু তারা আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে এসেছে। মামলার পলাতক আসামীদের গ্রেফতার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং আসামীদের শীঘ্রই গ্রেফতার করা হবে। দায়েরকৃত মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত করা হবে বলে জানান।
নিহতের স্ত্রী ৯ মাসের অন্তঃসত্ত¡া তামান্না বেগম কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, তার স্বামীকে পরিকল্পিত ভাবে গ্রামের প্রভাভশালীরা হত্যা করেছেন। বর্তমানে তিনি গর্ভাবস্থায় ২ সন্তানকে নিয়ে উৎকন্ঠার মধ্যে বসবাস করছেন এবং তার স্বামীর হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবী জানান।
